পরিশ্রম করেছি, সততা দেখিয়েছি, বাকিটা সৃজিত মুখার্জি আছেন : বাঁধন

পরিশ্রম করেছি, সততা দেখিয়েছি, বাকিটা সৃজিত মুখার্জি আছেন বাঁধন
image_pdfimage_print

নিউজ ডেস্ক –

দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জন উড়িয়ে কলকাতার জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ ওয়েব সিরিজের আলোচিত কেন্দ্রীয় মুশকান জুবেরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের আজমেরী হক বাঁধন। কলকাতার গণমাধ্যমের বরাতে এনটিভি অনলাইন এই খবর জানিয়েছিল গত ২৩ ডিসেম্বর।

যদিও তখন এই প্রসঙ্গে মন্তব্য পাওয়া যায়নি পর্দার মুশকান জুবেরীর। গতকাল সন্ধ্যায় বেশ আয়োজন করে এই ওয়েব সিরিজের বিস্তারিত জানিয়েছে ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’। সেই আয়োজনের শেষে মধ্যরাতে পাওয়া গেল মুশকান জুবেরীকে। এর আগে এই চরিত্রে ১৬ ডিসেম্বর থেকে টানা আট দিন পুরো রাত শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন।

হোয়াটসঅ্যাপে আলাপচারিতার প্রথমে বাঁধনের কাছে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়। এনটিভি অনলাইনকে বাঁধন বললেন, ‘প্রথমে তো বিশ্বাসই করতে পারেনি যে সৃজিত মুখার্জি আমাকে খুঁজে বের করেছেন তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য, আর সেই চরিত্রের নাম হচ্ছে মুশকান জুবেরী।

যেকোনো মানুষ আসলে মুশকান জুবেরীর মতো একটা চরিত্র করার জন্য অস্থির থাকবে, কারণ এটা ভীষণ শক্তিশালী একটা চরিত্র; ভীষণ সুন্দর একটা চরিত্র।

আমার জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। অনেক কিছু শেখা হচ্ছে, অনেক কিছু শিখতে পারছি, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। একজন সৃজিত মুখার্জি একটা ইনস্টিটিউট। একজন রাহুল বোস একটা ইনস্টিটিউট। তাঁর মতো অভিনেতার সঙ্গে আমি কাজ করছি, তাঁর সঙ্গে আমার সরাসরি সিন (দৃশ্য), সেই রকম ভয়ঙ্কর সিন। দুই এপিসোড শুধু একই সিন…।’

প্রথমে আলোচিত এই চরিত্রের জন্য অনেকের নাম শোনা গেলেও এই চরিত্রের জন্য পরিচালক সৃজিত মুখার্জির প্রথম পছন্দই ছিলেন বাংলাদেশের বাঁধন। গতকালের আয়োজনে পরিচালক সৃজিত মুখার্জি সেটাই জানিয়েছেন।

আজমেরী হক বাঁধন এই সিরিজের শুটিং করবেন ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তারপর করোনা পরীক্ষা করে দেশে ফিরতে ফিরতে লাগবে আরো দিন পাঁচেক। আলোচিত এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের প্রস্তুতির গল্পটা বাঁধন শুরু করেছেন এভাবে, ‘আমরা প্যানডেমিকের প্রায় প্রথম থেকেই কাজ করছিলাম।

আমি প্রথমে গল্পের বইটা পড়লাম। তারপর স্ক্রিপ লেখা শেষ হলে পাঠালেন, পড়লাম। সৃজিত মুখার্জি আমার সহকর্মীর ডায়লগ রেকর্ড করে পাঠাতেন, তারপর আমার ডায়লগগুলো রিহার্সাল করে করে আমি উনাকে পাঠাতাম। এভাবে দীর্ঘদিন আমি অনলাইনে রিহার্সালটা করি, উচ্চারণের ক্লাস করি।

আমি যেহেতু গান গাইতে পারি না, গান শিখিনি, ছোটোবেলায় আমি যেটা করেছি সারেগামাপা থেকে শুরু করেছি। আমি গানটা গেয়ে ফেলতে না পারলেও লিপ সিঙ্কটা করতে পারি। সেটার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। চরিত্রের জন্য বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি নিয়েছি।

গেল ছয়-সাত মাসে কোনো কাজ নিইনি। এই সময়ের মধ্যে এটার চর্চার মধ্যে ছিলাম। আমি আমার পরিশ্রমটা করেছি, আমি আমার সততা দেখিয়েছি, বাকিটা তো সৃজিত মুখার্জি আছেনই; তিনি অনেকভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন।’

অন্তর্জালের আলাপচারিতার শেষের দিকে এনটিভি অনলাইন বাঁধনের কাছে জানতে চেয়েছিল, দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কাজ করেছেন; প্রথমবার ওপার বাংলায় কাজ করলেন বাঁধন, আসলে পার্থক্যটা কী? বাঁধনের কথায় পার্থক্যটা এমন, ‘কাজের পার্থক্য বলতে আমার কাছে মনে হয়েছে, সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্টটা খুব বেশি। যেটা আমাদের এখানে খুব কম।

আমাদের এখানে খুব মেধাবী পরিচালক আছেন, যাঁরা খুব ভালো কাজ করেন, (তবে) আমাদের এখানে বাজেটের একটা সমস্যা থাকে। প্রিপ্রোডাকশন ওদের খুব ভালো গোছানো।  এ ছাড়া খুব একটা পার্থক্য দেখতে পারিনি।’

জানা গেছে,  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-দুর্গাপুর অঞ্চলে শুটিং চলছে  ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ ওয়েব সিরিজের। বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন অঞ্জন দত্ত। সিরিজের অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন রাহুল বোস, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, অনির্বাণ চক্রবর্তী প্রমুখ।

নাজিম উদ্দিনের ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস। বাতিঘর প্রকাশনীর ব্যানারে ২০১৫ সালে প্রকাশ পায় উপন্যাসটি।

Leave a Reply